Jahangirnagar University -শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাবির ১৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

Jahangirnagar University Takes Action Against 13 Teachers Over July Student Attack

জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাবির (Jahangirnagar University) ১৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। সাবেক ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জাবি প্রতিনিধি | ১৬ জুন ২০২৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগেJahangirnagar University- এর ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে চলা সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান গণমাধ্যমকে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ আলোচনা, যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ পর্যালোচনার পর সিন্ডিকেট এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে মোট ১৯ জন শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদাবনতি ও বেতন অবনমনসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। Jahangirnagar University এর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল আহমেদ রঙ্গন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, অধ্যাপক বশির আহমেদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজউদ্দিন শিকদার, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের বেতন নিম্নধাপে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে আগামী পাঁচ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময় পর তাদের পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে প্রভাষক পদে এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। তারা দুই বছর পর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পদোন্নতির আবেদন করতে পারবেন। ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ মামুনকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড. এ মামুনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে আইবিএ-জেইউর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান এবং অপরাধে জড়িত কেউ যেন ছাড় না পান—এই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য প্রশাসন এবং কোষাধ্যক্ষের ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করা হয়নি। এ কারণে সিন্ডিকেট সভায় তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরো পড়ুন- বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাদ পড়ার খবর গুজব: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাদ পড়ার খবর গুজব: শিক্ষামন্ত্রী

বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাতিলের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন: শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬: স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাতিল বা আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার যে খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। কারিকুলাম নিয়ে পর্যালোচনা চলছে, বিষয় বাতিল নয় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বাজারে যেসব বিষয়ের চাহিদা রয়েছে, স্নাতক পর্যায়ের কারিকুলামে (পাঠ্যক্রম) কেবল সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্তিকরণ ও আধুনিকায়ন নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। তবে বাংলা, ইতিহাস বা দর্শনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়া কিংবা এসব বিষয়ে আসন সংখ্যা কমানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই ইস্যুতে মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের আলোচনাও হয়নি।” ছড়িয়ে পড়া খবরকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলল মন্ত্রণালয় এর আগে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে, অনার্স পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয়গুলো তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই তথ্যটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মহলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত যেমন নেওয়া হয়নি, তেমনি সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনাও নেই। “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি। যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জনগণের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক সূত্রের ওপর নির্ভর করা।” — নূরুল আফসার দীপু, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা গুজব এড়াতে সচেতনতার আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতের প্রয়োজন হয়। হুট করে কোনো মৌলিক বিষয় বাতিল করার সুযোগ নেই। তাই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে সর্বসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। (তথ্যসূত্র: মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর আলাপচারিতা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিং)

ইউনেস্কোর প্রতিবেদন: অবৈতনিক শিক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ায় চরম তলানিতে বাংলাদেশ

ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫’ অনুযায়ী, অবৈতনিক শিক্ষার আইনি নিশ্চয়তার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক তালিকায় চরম বিপর্যয়কর অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশে মাত্র পাঁচ বছর অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার আইনগত নিশ্চয়তা দেওয়া হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন এবং বৈশ্বিক সূচকেও তলানিতে। যেখানে একই অঞ্চলের ও সমপর্যায়ের অর্থনৈতিক প্রতিবেশী দেশগুলো দীর্ঘ মেয়াদে অবৈতনিক শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ রয়েছে অনেক পিছিয়ে। গবেষকদের মতে, এই সংকটের কারণগুলো নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট হলেও তা সমাধানে যুগান্তকারী রাজনৈতিক সদিচ্ছার তীব্র অভাব রয়েছে। বিশ্বমঞ্চে ও দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট ফর স্ট্যাটিস্টিকস এবং এডুকেশন ডাটা অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্স কমিশনের যৌথ প্রতিবেদনে প্রতিটি দেশের ‘ইয়ার্স অফ গ্যারান্টিড এডুকেশন প্রোগ্রাম’ (ওয়াইজিইপি) বা সরকার আইনত কত বছর অবৈতনিক শিক্ষা দিতে বাধ্য, তা পরিমাপ করা হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পশ্চিম আফ্রিকার টোগো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মিয়ানমার ও ভিয়েতনামের মতো দেশের সাথে সর্বনিম্ন স্তরে। অন্যদিকে, শীর্ষস্থানে থাকা অস্ট্রেলিয়া, মরিশাস, সান মারিনো এবং লিচেনস্টাইন ১৩ বছরের অবৈতনিক শিক্ষার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়া: অবৈতনিক শিক্ষার মেয়াদকাল (এক নজরে) দেশ অবৈতনিক শিক্ষার সময়সীমা শিক্ষাক্রমের স্তর শ্রীলঙ্কা ১৩ বছর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পাকিস্তান ১২ বছর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত আফগানিস্তান ১২ বছর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মালদ্বীপ ১২ বছর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত নেপাল ১২ বছর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ভুটান ১১ বছর মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত ভারত ৮ বছর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ৫ বছর পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উৎস: ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশ ছাড়া বাকি সব দেশেই মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ভারতও বাংলাদেশের চেয়ে ৩ বছর বেশি সুবিধা দিচ্ছে। কাগজের শিক্ষানীতি: ১৫ বছরেও বাস্তবায়নহীন ‘অষ্টম শ্রেণি’ এই সমস্যাটি নতুন নয়। ২০১০ সালে পাস হওয়া বাংলাদেশের ‘জাতীয় শিক্ষানীতিতে’ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষাকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করার স্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই পরিকল্পনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ সরকারের এই স্থবিরতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন: “সরকারের কাছে শিক্ষা কখনোই প্রকৃত অগ্রাধিকার পায়নি। তারা কেবল আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা থেকে কাজ করে, সঠিক বাস্তবায়নের সদিচ্ছা থেকে নয়।” তিনি উল্লেখ করেন, বাধ্যতামূলক শিক্ষার মেয়াদ বাড়ানো কেবল কোনো প্রশাসনিক আদেশ নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক আর্থিক বরাদ্দ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক, ভৌত অবকাঠামো এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই এই ধরনের সম্প্রসারণ টিকিয়ে রাখার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। নামমাত্র অবৈতনিক’ ও আড়ালে থাকা সুযোগ ব্যয় (Opportunity Cost) ইউনেস্কো যখন বাংলাদেশের অবৈতনিক শিক্ষার বছর গণনা করে, তখন তারা মূলত টিউশন ফি মওকুফ এবং বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণকে বিবেচনায় নেয়। তবে গবেষকদের মতে, এই শ্রেণীকরণটি পরিবারের প্রকৃত খরচকে আড়াল করে দেয়। আইইআর-এর অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান এই ব্যবধান সম্পর্কে বলেন, “কাগজে-কলমে বা সরকারিভাবে আমরা হয়তো এটাকে অবৈতনিক বলতে পারি, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। খাতা, কলম, যাতায়াত, প্রাইভেট কোচিং এবং খাবারের খরচ পরিবারগুলোকেই বহন করতে হয়। একটি নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য এই খরচ চালানো অসম্ভব।” অধ্যাপক মজিবুর রহমান বাংলাদেশের শিক্ষা নীতির আলোচনায় সচরাচর উপেক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ধারণা তুলে ধরেন, যা হলো ‘সুযোগ ব্যয়’ (Opportunity Cost): “একটি শিশু যদি স্কুলে না যেত, তবে হয়তো সে কোনো চায়ের দোকানে বা কৃষিকাজে শ্রম দিয়ে টাকা আয় করত। সেই হারিয়ে যাওয়া আয়টাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমি শিশুটিকে কাজে না পাঠিয়ে স্কুলে আসতে বাধ্য করছি, অথচ পরিবারের সেই আয়ের খুব প্রয়োজন ছিল।” বর্তমানে দেশে যে উপবৃত্তি দেওয়া হয়, তা এই হারিয়ে যাওয়া আয়ের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে আইন করে বাধ্য করলেও তা ঝরে পড়ার হারই বাড়াবে, শিক্ষার প্রকৃত মান নয়। শিক্ষক সংকট ও উচ্চশিক্ষায় তার প্রভাব উভয় বিশেষজ্ঞই একমত যে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে মেয়াদের বছর বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই। ড. মনিনুর রশিদ এই সমস্যাটিকে শিক্ষার ফলাফলের আলোকে ব্যাখ্যা করে বলেন, পঞ্চম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী যদি দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির স্তরের পড়া না বোঝে, তবে তার শিক্ষার মেয়াদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাড়িয়ে লাভ নেই। এটি কেবল ব্যবধানটিকে ওপরের স্তরে ঠেলে দেয়। “ভিত্তি যদি শুরু থেকেই দুর্বল হয়, তবে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরেই সেই দুর্বলতা বয়ে বেড়ায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়, যেখানে প্রায় ৯০% আবেদনকারী ন্যূনতম যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হন।” — ড. মোহাম্মদ মনিনুর রশিদ মেধাবীদের শিক্ষকতায় অনীহা অধ্যাপক মজিবুর রহমান শিক্ষক নিয়োগ ও তাদের এই পেশায় ধরে রাখার ক্ষেত্রে কাঠামোগত ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বিসিএস পরীক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষকতা পেশা খুব কমই প্রথম পছন্দ হয়। দেশের সেরা মেধাবীরা কেন শিক্ষকতায় আসবেন না? কারণ আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সুবিধা বা প্রণোদনা দিই না। অনেকেই ভাগ্যচক্রে অনিচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষক হন, ফলে কাজের প্রতি তাদের অনুপ্রেরণা থাকে না।” স্মার্ট ডিভাইস বনাম মৌলিক অবকাঠামো: বাজেটের সঠিক ব্যবহার কোথায়? সরকার বারবার শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের অঙ্গীকার করলেও, বরাদ্দের খাত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, “আমরা যদি বাজেট বাড়াইও, কিন্তু সেখানে যদি বিদ্যুৎ বা ওয়াই-ফাই না থাকে, তবে স্মার্ট ডিভাইস কিনে কী লাভ? আসল প্রশ্ন হলো, আমরা সঠিক জায়গায় টাকা খরচ করছি কি না।” শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মতো দীর্ঘমেয়াদি ও কঠিন কাজের তুলনায় দৃশ্যমান ও প্রযুক্তিনির্ভর মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রবণতাই বেশি দেখা যায় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার উদাহরণ টেনে ড. মনিনুর রশিদ বলেন, সেখানে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার পেছনে রয়েছে বিনামূল্যে বই-খাতা, কল্যাণমূলক ভাতা এবং পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় আয় সহায়তা। অথচ বাংলাদেশে যে পরিবারের খাবার ও কর্মসংস্থান নেই, সেই পরিবারের একটি শিশু কেন শুধু বইয়ের জন্য স্কুলে আসবে উত্তরণের পথ: প্রয়োজন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ইউনেস্কোর এই র‍্যাংকিং নিজে থেকে বদলাবে না। অবৈতনিক শিক্ষার আইনি নিশ্চয়তা পঞ্চম শ্রেণি থেকে বাড়িয়ে অষ্টম শ্রেণি বা তার ওপরের স্তরে উন্নীত করার জন্য একটি কঠোর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। বাংলাদেশ অবৈতনিক শিক্ষায় এই অঞ্চলে তালিকার একদম তলানিতে অবস্থান করছে— এই সত্য নীতিনির্ধারকদের বহু বছর ধরেই জানা। ইউনেস্কোর তথ্য উপাত্ত এই ক্ষতটিকে আরও একবার বিশ্বমঞ্চে উন্মুক্ত করল। এখন দেখার বিষয়, সরকার এটিকে কেবল প্রশাসনিক দায়মুক্তির প্রকল্প হিসেবে দেখবে, নাকি কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সফল রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসবে।

১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিবে সরকার

দেশে একযোগে ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ১১টি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে এবারের নিয়োগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে নতুন উপাচার্যদের যোগ্যতা ও গবেষণার ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদায়ী উপাচার্যদের তুলনায় নবনিযুক্ত উপাচার্যদের একটি বড় অংশই শিক্ষা ও গবেষণার বৈশ্বিক মানে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন। শিক্ষা ও গবেষণার তুলনামূলক চিত্র নবনিযুক্ত এবং সদ্য সাবেক (পুরোনো) ২২ জন ভিসির শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য যাচাই করে কিছু উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে: পিএইচডি ডিগ্রির মান: বিদায়ী ১১ জন উপাচার্যের সবাই উন্নত বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। বিপরীতে, নতুন ১১ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জন বিদেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। রাবিপ্রবি ও বুয়েট: সাবেকদের ধারেকাছেও নেই নতুন উপাচার্যরা শিক্ষা ও গবেষণার এই তুলনামূলক ব্যবধান সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এবং বুয়েটের ক্ষেত্রে। রাবিপ্রবির বিদায়ী ও বর্তমান উপাচার্যের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো: ১. অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান (সদ্য সাবেক উপাচার্য, রাবিপ্রবি) তিনি একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রাণরসায়নবিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। ২. অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী (নবনিযুক্ত উপাচার্য, রাবিপ্রবি) তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক নজরে রাবিপ্রবির সাবেক ও বর্তমান উপাচার্যের গবেষণা প্রোফাইল: সূচক বিদায়ী উপাচার্য (ড. আতিয়ার রহমান) নতুন উপাচার্য (ড. জয়নুল আবেদীন) প্রকাশিত গবেষণাপত্র ২৪৩টি ১৯টি সাইটেশন সংখ্যা ৪,০১৭টি ৫৭৬টি গবেষণা পঠিত ১,১৩,৭০৩+ বার –

২০২৮-এর লক্ষ্যে এগোচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রম: পুরোদমে চলছে বাস্তবায়নের কাজ

শিক্ষাক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন: ২০২৮-এর লক্ষ্যমাত্রা ও ডিজিটাল শিক্ষার ঘোষণা আজ শুক্রবার পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। বক্তৃতার মূল বিষয়গুলো হলো: নতুন কারিকুলাম: ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন শিক্ষাক্রমের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। বিশেষজ্ঞ কমিটি বর্তমানে বই পরিমার্জনের কাজ করছেন। মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক: শিক্ষার পরিবেশ আনন্দময় করতে বইয়ের কাগজের মান ও প্রিন্টিং আরও উন্নত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোট-গাইড মুক্ত শিক্ষা: শিক্ষকরা যাতে নোট বা গাইড বই দেখে প্রশ্ন তৈরি না করেন, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়। স্মার্ট ক্লাসরুম: শিক্ষকদের ডিজিটাল সুবিধার আওতায় আনতে ইতিপূর্বেই ট্যাব দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতেও ট্যাব তুলে দেওয়া হবে। সভায় প্রকাশনা খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান প্রকাশকরা। এসময় নীতি সহায়তা ও স্বল্প সুদে ঋণ সহয়তা দেয়ার দাবি তোলেন তারা।