Jahangirnagar University -শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাবির ১৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

Jahangirnagar University Takes Action Against 13 Teachers Over July Student Attack

জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জাবির (Jahangirnagar University) ১৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। সাবেক ভিসি, প্রো-ভিসি ও কোষাধ্যক্ষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে পৃথক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জাবি প্রতিনিধি | ১৬ জুন ২০২৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগেJahangirnagar University- এর ১৩ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে চলা সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান গণমাধ্যমকে জানান, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দীর্ঘ আলোচনা, যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ পর্যালোচনার পর সিন্ডিকেট এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগে মোট ১৯ জন শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়। তাদের মধ্যে একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পদাবনতি ও বেতন অবনমনসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে। অন্যদিকে কয়েকজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। Jahangirnagar University এর সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসরাফিল আহমেদ রঙ্গন, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর কবির, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান, অধ্যাপক বশির আহমেদ, পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজউদ্দিন শিকদার, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের বেতন নিম্নধাপে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনকে আগামী পাঁচ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময় পর তাদের পদোন্নতির আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে প্রভাষক পদে এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। তারা দুই বছর পর শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পদোন্নতির আবেদন করতে পারবেন। ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ মামুনকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে ড. এ মামুনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে আইবিএ-জেইউর সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহিরুল ইসলাম খন্দকার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ছায়েদুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার খসরু পারভেজ এবং সহকারী রেজিস্ট্রার রাজীব চক্রবর্তীকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি জানান, কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান এবং অপরাধে জড়িত কেউ যেন ছাড় না পান—এই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন উপাচার্য, প্রো-উপাচার্য প্রশাসন এবং কোষাধ্যক্ষের ভূমিকার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আগে কোনো স্ট্রাকচার কমিটি গঠন করা হয়নি। এ কারণে সিন্ডিকেট সভায় তাদের প্রত্যেকের বিষয়ে পৃথক তিনটি স্ট্রাকচার কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরো পড়ুন- বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাদ পড়ার খবর গুজব: শিক্ষামন্ত্রী

১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিবে সরকার

দেশে একযোগে ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ১১টি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তবে এবারের নিয়োগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে নতুন উপাচার্যদের যোগ্যতা ও গবেষণার ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদায়ী উপাচার্যদের তুলনায় নবনিযুক্ত উপাচার্যদের একটি বড় অংশই শিক্ষা ও গবেষণার বৈশ্বিক মানে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন। শিক্ষা ও গবেষণার তুলনামূলক চিত্র নবনিযুক্ত এবং সদ্য সাবেক (পুরোনো) ২২ জন ভিসির শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য যাচাই করে কিছু উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে: পিএইচডি ডিগ্রির মান: বিদায়ী ১১ জন উপাচার্যের সবাই উন্নত বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। বিপরীতে, নতুন ১১ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জন বিদেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী। রাবিপ্রবি ও বুয়েট: সাবেকদের ধারেকাছেও নেই নতুন উপাচার্যরা শিক্ষা ও গবেষণার এই তুলনামূলক ব্যবধান সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এবং বুয়েটের ক্ষেত্রে। রাবিপ্রবির বিদায়ী ও বর্তমান উপাচার্যের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো: ১. অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান (সদ্য সাবেক উপাচার্য, রাবিপ্রবি) তিনি একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রাণরসায়নবিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। ২. অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী (নবনিযুক্ত উপাচার্য, রাবিপ্রবি) তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক নজরে রাবিপ্রবির সাবেক ও বর্তমান উপাচার্যের গবেষণা প্রোফাইল: সূচক বিদায়ী উপাচার্য (ড. আতিয়ার রহমান) নতুন উপাচার্য (ড. জয়নুল আবেদীন) প্রকাশিত গবেষণাপত্র ২৪৩টি ১৯টি সাইটেশন সংখ্যা ৪,০১৭টি ৫৭৬টি গবেষণা পঠিত ১,১৩,৭০৩+ বার –

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান?

যুদ্ধ বন্ধে চুক্তির কাছাকাছি ইরান-আমেরিকা । একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশ এখন একটি এক পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত খসড়া চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংশ্লিষ্ট পাকিস্তানি সূত্রটি রয়টার্সকে বলেন, “আমরা খুব শিগগির এটি শেষ করব। আমরা চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি আছি।” গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক-কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উদ্বেগ তৈরি করে। এমতাবস্থায়, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে গৃহীত বিশেষ মার্কিন সামরিক মিশন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা হ্রাস এবং চলমান সমঝোতার পথকে আরও প্রশস্ত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।