
বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বাতিলের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন: শিক্ষামন্ত্রী
ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬: স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয় বাতিল বা আসন সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার যে খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও স্রেফ গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
কারিকুলাম নিয়ে পর্যালোচনা চলছে, বিষয় বাতিল নয়
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বাজারে যেসব বিষয়ের চাহিদা রয়েছে, স্নাতক পর্যায়ের কারিকুলামে (পাঠ্যক্রম) কেবল সেসব বিষয় অন্তর্ভুক্তিকরণ ও আধুনিকায়ন নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। তবে বাংলা, ইতিহাস বা দর্শনের মতো মৌলিক বিষয়গুলো বাদ দেওয়া কিংবা এসব বিষয়ে আসন সংখ্যা কমানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এই ইস্যুতে মন্ত্রণালয়ে কোনো ধরনের আলোচনাও হয়নি।”
ছড়িয়ে পড়া খবরকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলল মন্ত্রণালয়
এর আগে গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে, অনার্স পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিষয়গুলো তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই তথ্যটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মহলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত যেমন নেওয়া হয়নি, তেমনি সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনাও নেই।
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি। যেকোনো সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য জনগণের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে কান না দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের নির্ভরযোগ্য ও আনুষ্ঠানিক সূত্রের ওপর নির্ভর করা।” — নূরুল আফসার দীপু, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা
গুজব এড়াতে সচেতনতার আহ্বান
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেকোনো শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির মতামতের প্রয়োজন হয়। হুট করে কোনো মৌলিক বিষয় বাতিল করার সুযোগ নেই। তাই এ ধরনের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে এবং অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে সর্বসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
(তথ্যসূত্র: মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে শিক্ষামন্ত্রীর আলাপচারিতা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিং)





