
দেশে একযোগে ১১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত পৃথক ১১টি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
তবে এবারের নিয়োগে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে নতুন উপাচার্যদের যোগ্যতা ও গবেষণার ট্র্যাক রেকর্ড নিয়ে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিদায়ী উপাচার্যদের তুলনায় নবনিযুক্ত উপাচার্যদের একটি বড় অংশই শিক্ষা ও গবেষণার বৈশ্বিক মানে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন।
শিক্ষা ও গবেষণার তুলনামূলক চিত্র
নবনিযুক্ত এবং সদ্য সাবেক (পুরোনো) ২২ জন ভিসির শিক্ষা ও গবেষণার তথ্য যাচাই করে কিছু উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে:
- গবেষণাপত্রের ঘাটতি: নতুন ১১ জন উপাচার্যের মধ্যে ৭ জনেরই গবেষণাপত্র প্রকাশের সংখ্যা সাবেকদের চেয়ে কম।
- বিপুল ব্যবধান: বিশেষ করে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য গবেষণার দিক থেকে আগের উপাচার্যদের ধারেকাছেও নেই।
পিএইচডি ডিগ্রির মান: বিদায়ী ১১ জন উপাচার্যের সবাই উন্নত বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেছিলেন। বিপরীতে, নতুন ১১ জনের মধ্যে মাত্র ৭ জন বিদেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী।
রাবিপ্রবি ও বুয়েট: সাবেকদের ধারেকাছেও নেই নতুন উপাচার্যরা
শিক্ষা ও গবেষণার এই তুলনামূলক ব্যবধান সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি) এবং বুয়েটের ক্ষেত্রে। রাবিপ্রবির বিদায়ী ও বর্তমান উপাচার্যের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
১. অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান (সদ্য সাবেক উপাচার্য, রাবিপ্রবি)
তিনি একজন আন্তর্জাতিক মানের প্রাণরসায়নবিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক।
- শীর্ষ গবেষক: ‘স্কোপাস ২০২৪’ (Scopus 2024) তালিকায় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম শীর্ষ গবেষক হিসেবে স্থান পেয়েছেন।
- গবেষণাপত্র: দেশি-বিদেশি বিভিন্ন খ্যাতনামা জার্নালে তার ২৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।
- সাইটেশন ও রিড: বৈশ্বিক গবেষণা মহলে তার গবেষণাপত্রের সাইটেশন সংখ্যা ৪,০১৭টি এবং তার গবেষণাগুলো ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৭০৩ বারেরও বেশি পঠিত হয়েছে।
২. অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী (নবনিযুক্ত উপাচার্য, রাবিপ্রবি)
তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- শিক্ষা ও উচ্চতর ডিগ্রি: ১৯৯০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি এবং ১৯৯২ সালে এমএস সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি এবং ২০০৮ সালে কিওটো ইউনিভার্সিটি থেকে পোস্ট-ডক্টরাল রিসার্চ সম্পন্ন করেন।
- প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা: অধ্যাপনাকালে তিনি একাডেমিক কাউন্সিল সদস্য, প্রভোস্ট এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পিয়ার রিভিউ কমিটির বিশেষজ্ঞ সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
- গবেষণা প্রোফাইল: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে তার প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা অন্তত ১৯টি এবং সাইটেশন সংখ্যা মাত্র ৫৭৬টি।
এক নজরে রাবিপ্রবির সাবেক ও বর্তমান উপাচার্যের গবেষণা প্রোফাইল:
| সূচক | বিদায়ী উপাচার্য (ড. আতিয়ার রহমান) | নতুন উপাচার্য (ড. জয়নুল আবেদীন) |
| প্রকাশিত গবেষণাপত্র | ২৪৩টি | ১৯টি |
| সাইটেশন সংখ্যা | ৪,০১৭টি | ৫৭৬টি |
| গবেষণা পঠিত | ১,১৩,৭০৩+ বার | – |